সোমবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০১৮

***ইউএসএতে থাকা অবস্থায় পাসপোর্ট রিনিউয়াল***

[এ ব্যাপারে সোজাসাপ্টা ডকুমেন্ট অ্যাম্বেসির ওয়েবসাইটেই আছে তারপরও পোস্টটি লেখা এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে আশা করি কাজে আসবে]

অনেকে যেটা করেন, ইউএসএ থেকে দেশে ঘুরতে গিয়ে তখন পাসপোর্ট রিনিউ করেন খানিকটা সময় নষ্ট হয় আরকি ঘরে বসেই এটা করা যায় স্টেপগুলো সংক্ষেপে বলছি

শুরুতেই বলে রাখি, পাসপোর্ট রিনিউ করার প্রসেস সম্পূর্ণ হতে প্রায় ৬০ বিজনেস ডে-র মত লাগতে পারে কাজেই নিরাপদ হচ্ছে পাসপোর্টে মাস ছয়েক মেয়াদ থাকতেই রিনিউয়ালের কাজ শুরু করা


১. ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসির ওয়েবসাইটে যান (http://www.bdembassyusa.org/) এখানে Passport and visa -> Passport -> MRP re-issue form এ যান একটা ডকুমেন্ট ওপেন হবে

২. শুরুতেই ডকুমেন্টের শেষ পাতায় চলে যান ইন্সট্রাকশান লেখা আছে কী কী করতে হবে ৫৫*৪৫ মিলিমিটার সাইজের রিসেন্ট ছবি, বর্তমান পাসপোর্টের ফটোকপি (অরিজিনালসহ পাঠাতে হবে বলা আছে, কিন্তু ফটোকপিই যথেষ্ট - জাস্ট সাথে একটা চিঠি আপনার সইসহ অ্যাটাচ করে দেবেন যে অরিজিনাল পাসপোর্ট সেন্ড করছেন না কারণ আপনার আইডি দেখানোর জন্য এটা সাথে রাখতে হয়, অ্যাম্বেসি চাইলে আপনি এটা সেন্ড করবেন। পোস্টে একটা ডামি লেটার অ্যাটাচ করা আছে), ন্যাশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি, ১১০ ডলারের ব্যাংক ড্রাফট/মানি অর্ডার (দ্রুত ডেলিভারির জন্য ২২০ ডলার), পেশার প্রুফের ডকুমেন্ট (অফার লেটার বা ওয়ার্ক অথোরাইজেশন ডকুমেন্ট - যেখানে আপনি এমপ্লয়েড সেখান থেকেই পাবেন), ম্যারিড হলে ম্যারেজ সার্টিফিকেটের ফটোকপি, নন-সিটিজেন প্রুফের ডকুমেন্ট (আই-২০ বা ওয়ার্ক পারমিট ধরণের ডকুমেন্ট) রেডি করুন

৩. যদি আপনার ছবি বা সিগনেচার চেঞ্জ করার দরকার হয়, তাহলে অফিস আওয়ারে অ্যাম্বেসিকে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে প্রসিডিউর জেনে নিন যে ফর্মটা ডাউনলোড করেছেন, সেটার শুরুতেই তথ্য সংশোধনের একটা পেইজ আছে আর যদি বাচ্চা বয়সে (১৫ বছরের কম) আপনার পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়ে থাকে, তাহলে অ্যাম্বেসি অথবা অস্থায়ী এনরোল ক্যাম্পে সশরীরে ভিজিট করতে হবে বাকি নিয়ম একই হবে

৪. এবার ফিল-আপ করা ফর্ম, দরকারি ডকুমেন্টগুলো এবং একটা “Self-addressed prepaid envelope” সবকিছু পাঠিয়ে দিন অ্যাম্বেসির ঠিকানায় (ওয়েবসাইটের হোমপেজেই ডানদিকে ঠিকানা দেখতে পাবেন) এই রিটার্ন এনভেলপ অবশ্য পাঠাতে হবেনা যদি আপনি নিজেই অ্যাম্বেসি থেকে নতুন পাসপোর্ট কালেক্ট করতে সশরীরে যান

৫. এবার অপেক্ষা করুন ঢাকা থেকে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে আসলে অ্যাম্বেসি থেকে আপনার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হবে। 

নোটঃ 


ক। ছবি তোলা নিয়ে অনেকেই চিন্তায় থাকেন। কারণ নির্দিষ্ট সাইজে ছবি তোলা খুব ব্যয়বহুল, এবং ওয়ালগ্রিনস জাতীয় ছবি প্রিন্টের জায়গায় ফর্মে বলা সাইজে প্রিন্ট দেয়া যায় না। এটা নিয়ে চিন্তার কোনই কারণ নেই। সাদা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে ফটোশপ বা অন্য কিছু দিয়ে এডিট করে নির্দিষ্ট সাইজে প্রিন্ট দিলেই হবে। পুরনো পাসপোর্ট সাইজের বা ২x২ ইঞ্চি ছবি হলেও কোন অসুবিধা নেই, কারণ আপনি ফর্মের সাথে অ্যাটাচ করে যে ছবি পাঠাবেন, সেটা ইউজ করা হবে না, আগের পাসপোর্টে যে মুখ ভোঁতা চ্যাপ্টা ছবিটা দিয়েছেন, নতুন পাসপোর্টে সেটাই আসবে। নতুন সুন্দর পালিশ করা ফিল্টার করা এডিটেড ছবি দিতে হলে কী করতে হবে তা ওপরে ৩ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে।



ছবি নির্দিষ্ট সাইজে প্রিন্ট করার কায়দা সম্পূর্ণ নিজের সুবিধা অনুযায়ী। ছবি প্রিন্ট যে কাগজে হয়, সে কাগজ কিনে কালার প্রিন্টারে নির্দিষ্ট সাইজে কয়েক কপি এক পৃষ্ঠায় প্রিন্ট দেয়া যায়। আবার ওয়ালগ্রিনসের যেসব সাইজ আছে, তেমন সাইজের ফ্রেম বানিয়ে তাতে কয়েক কপি ছবি টেমপ্লেট বসিয়ে প্রিন্ট দেয়া যায়। তবে দুই ক্ষেত্রেই কিছুটা ফটোশপের কাজ আছে, আর ডিপিআই, রেজুলেশন এসব ঠিক রাখার ব্যাপার আছে। না বুঝে জাস্ট প্রিন্ট দিলে খুব বাজে কোয়ালিটির প্রিন্ট হবে। আমার কাছে দুটো অ্যাপ্রোচই ঝামেলার মনে হয়েছে, তাই খুঁজে-টুজে বহু বছর আগের একটা পুরনো পাসপোর্ট সাইজের ছবি চালিয়ে দিয়েছি। কোন সমস্যা হয় নি।

খ। যেহেতু আপনি ইউএসএ থাকা অবস্থায় রিনিউ করার আবেদন করছেন, সেহেতু ঠিকানা যেখানে থাকেন সেখানেরটা দেবেন (বৈদেশিক ঠিকানা)। গ্রামের বাড়ির ঠিকানা নয়।

গ। তারিখের ফরম্যাট আমেরিকান স্টাইলে দেবেন (মাস/দিন/বছর)। অর্থাৎ মাস আগে, দিন আগে নয়।

ঘ। মানি অর্ডার করা খুব সহজ, সম্ভবত গ্যাস স্টেশনেও করা যায়। তবে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলে সেখানে গিয়ে টাকার অ্যামাউন্ট বললেই তারা করে দেবে, একটা চেকের মত কাগজ দেবে যেখানে সবকিছু লেখা থাকবে। সেই ইনফরমেশন এবং নম্বর ফর্ম ফিল আপ করার জন্য সহজেই ইউজ করতে পারবেন। এছাড়াও ইউএসপিএস এর যেকোনো পোস্ট অফিসে গিয়ে মানি অর্ডার করতে পারবেন। সাথে কিছু ফি যোগ হবে।

ঙ। Self addressed prepaid envelope এর পূর্ব অভিজ্ঞতা অনেকেরই থাকে না। কিন্তু এটাও খুব সহজ। ইউএসপিএসে গিয়ে বলবেন যে কিছু ডকুমেন্ট  পাঠাচ্ছি, সাথে একটা Self addressed prepaid envelope এটার ভেতরে পাঠাবো। কাজেই আপনাকে দুটো খাম কিনতে হবে। প্রায়োরিটি মেইলের একটা বড় খাম কিনবেন, সেটার ভেতরে ভাঁজ করে একটা একটু ছোট খাম ঢুকিয়ে দেবেন অন্য সব কাগজপত্রের সাথে। স্ট্যাম্প লাগাতে হবে কিনা জিজ্ঞেস করবেন, ওরাই লাগিয়ে দেবে এবং কোন পিঠে কী লিখতে হবে সেটা বলে দেবে। ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া ছোট খামটাতে করেই নতুন পাসপোর্ট আসবে।

চ। পাসপোর্ট ট্র্যাকিংঃ অন্তত ৪৫ বিজনেস ডে চুপচাপ অপেক্ষা করতে হবে। আর যদিও প্রায়োরিটি মেইল, আপনি হয়তো দেখবেন যে অনেকদিন ধরেই ট্র্যাকিং এর কোন ইনফরমেশনই ইউএসপিএস দেখাচ্ছে না। ভয়ের কিছু নেই। পুরো প্রসেস শেষ হয়ে আসতে সময় লাগবে। ডকুমেন্ট বাংলাদেশে যাওয়া আসার ব্যাপার আছে। ট্র্যাকিং করতে না পারলেও একদিন দেখবেন নতুন পাসপোর্ট মেইলবক্সে এসে গেছে।

ছ। অনেকেই অনেকদিন দেশে যান নি বিধায় স্মার্ট কার্ড (নতুন ন্যাশনাল আইডি কার্ড) করতে পারেন নি। কিন্তু পুরনো পাসপোর্টে পুরনো বাতিল ন্যাশনাল আইডি কার্ডের নম্বর দেয়া ছিল। কাজেই অনেকে চিন্তায় পড়েন কী করবেন। এটা নিয়েও চিন্তার কিছু নেই। পুরনো আইডি কার্ডের ফটোকপি অ্যাটাচ করে দিয়ে দেবেন। সাথে একটা চিঠি লিখে দেবেন যে অনিবার্য কারণে আমি নতুন ন্যাশনাল আইডি কার্ড নিতে পারি নি, দয়া করে পুরনো নম্বরটাই ব্যবহার করুন। আমারও একই সমস্যা হয়েছিল, আমি পুরনো আইডি কার্ডের ফটোকপি আর বার্থ সার্টিফিকেটের ফটোকপি দিয়ে চিঠি অ্যাটাচ করে দিয়েছিলাম যে আমার কাছে এই দুটোই আছে, যেটা সুবিধা ব্যবহার করুন। আমার নতুন পাসপোর্টে ওরা আগের নম্বরই ব্যবহার করেছে, সমস্যা হয় নি। 

জ। সম্ভবত নিয়মাবলিতে লেখা আছে যে ছবি সত্যায়িত করে অ্যাটাচ করতে হবে। কিন্তু সত্যায়িত করার কোন দরকার নেই। এমনি লাগিয়ে দিলেই হবে। 


শেষ কথা, যদি পাঠানোর ব্যাপারটা নিজে নিজে করতে না চান, তাহলে অপেক্ষা করুন, অ্যাম্বেসির অস্থায়ী ক্যাম্প বিভিন্ন এলাকায় বছরের নানান সময়ে বসে কয়েকদিনের জন্য আপনার এলাকার কাছাকাছি এলে সেখানে গিয়েও ডকুমেন্টগুলো জমা দিয়ে আসতে পারেন দুমাসের মধ্যেই নতুন পাসপোর্ট এসে যাবার কথা, এবং এসে গেলে আপনি নিশ্চিন্ত   


ধন্যবাদ এবং শুভকামনা। 


[এডিটঃ অনেকের ফেইস করা ইস্যুর কারণে এই আপডেটঃ অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অরিজিনাল পাসপোর্ট না পাঠালে, অর্থাৎ শুধু ফটোকপি পাঠালে নতুন পাসপোর্ট পাঠানো হয় না। কাজেই অরিজিনাল পাসপোর্ট পাঠাতে হবে। অথবা কনস্যুলেটে ফোন করে জানাতে হবে, এবং তাদের ইন্সট্রাকশন ফলো করতে হবে। ]



(অরিজিনাল পোস্টঃ জানুয়ারি ৩০, ২০১৮; আপডেটঃ অগাস্ট ২৭, ২০১৯; নতুন আপডেটঃ মার্চ ৬, ২০২০)



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

আমি

আমি

Follow by Email